সঙ্গীতশিল্পী কনিকা রায়ের মায়ের স্বপ্ন কন্যা একদিন গুনি শিল্পী হবে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২০
  • ২৭১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিনোদন প্রতিবেদক : ‘মা যখন খেতে পারতেন তখন আমি খাওয়াতে পারিনি। এখন আমার খাওয়ানোর ক্ষমতা হয়েছে, কিন্তু মা আমার এখন আর খেতে পারে না।’ এভাবেই গায়িকা কনিকা রায় তার সঙ্গীত জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সংগ্রামী জীবনের প্রতি আলোকপাত করলেন।

তিনি জানান, জন্মের তিন মাস পর খুলনা বাগেরহাট থেকে তার পরিবার ভারতে চলে যান। তিনি সেখানেই বড় হন এবং লেখাপড়া যেটুকু করেছেন সেটা সেখানেই। তিনি বলেন, ‘মাকে নিয়ে ঢাকা ফিরে আসার পর আমাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। ভাত খেতে গিয়ে তরকারি পাইনি। কম টাকায় ভাড়া থেকেছি নদীর ওপারে। গানের টিউশনি করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন আমার কোনো অভাব নেই।’ দারিদ্র্যপীড়িত সেই সময়টাতে তিনি উত্তরা ক্লাবে গান গেয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কনিকা রায় জানান, ছোটবেলাতেই কলকাতায় তার গানে হাতে খড়ি। পরে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন অপর্না সেন (নায়িকা নন), মোহন ভট্টাচার্য, চন্দ্রকান্ত নন্দীসহ আরো কয়েকজনকে। তিনি বঙ্গীয় পরিষদ থেকে শাস্ত্রীয়, রবীন্দ্র এবং নজরুল সঙ্গীতে ডিপ্লোমা করেছেন এবং সেভাবেই কন্ঠচর্চা করেছেন। ছায়ানটে সঙ্গীতচর্চা করেছেন এক বছর। ২০০৪ সালে হাবিব ওয়াহিদের ময়না গো অ্যালবামে একক গান ‘কবিতায় বলেছিলে চন্দ্ররাতে’ গানটি গেয়ে তিনি পরিচিতি পান। গানটি ছিল মৌলিক। তার আরেকটি গান হলো টিপটিপ বৃষ্টিতে মন ভালো নেই। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০টিরও বেশি গান গেয়েছেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধবীলতা আমি, জানি তুমি আসবে না ফিরে ইত্যাদি। তিনি মালেকা সুন্দরী, এক জনমের কষ্টের প্রেম, ফিফটি ফিফটি লাভ এবং গুপ্তচর ছবির গানে কন্ঠ দিয়েছেন। তিনি আরও বেশ কয়েকটি ছবির গানে কন্ঠ দিয়েছেন। সে ছবিগুলো মুক্তি না পাওয়ায় তার কন্ঠও আড়ালে রয়ে গেছে। এছাড়া নাটক ও টেলিফিল্মতো আছেই। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের স্বপ্ন হলো আমি যেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিনের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হই। কিন্তু আমার আইডল হলো আশা ভোসলে। আমি পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা পাইনি। কিন্তু নিজস্ব মেধা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি অবিরাম।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x