পাপিয়ার ডেরায় যেতেন ৩০ জন আমলা-এমপি ও ব্যবসায়ীরা

সময়ের বাংলা প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০
  • ৩০৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে মক্ষীরানী শামীম নূর পাপিয়া ওরফে পিউ’র ডেরায় আমলা-এমপি ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির লোকের আসা-যাওয়া ছিল। ডেরায় নিয়মিত আসতেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এমন ব্যক্তিদের তালিকা করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংসদ সদস্যসহ ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন।

সেই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান এমন মন্ত্রীর উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। সেখানে যেতেন এমন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে একজন খুলনা বিভাগের। অন্য একজন বৃহত্তর রংপুরের। আরেকজন ময়মনসিংহ বিভাগের। সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার একজন, দিনাজপুর জেলার একজন, নীলফামারী জেলার একজন, রংপুর জেলার একজন, কুষ্টিয়ার একজন, মাগুরার একজন, ময়মনসিংহের একজন, নেত্রকোনার একজন, মানিকগঞ্জের একজন রয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে এফবিসিসিআই’র একজন সাবেক সভাপতি, একজন সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ নিট ডায়িং ওনার্স এসোসিয়েশনের একজন নেতা, একজন প্রতিষ্ঠিত জুয়েলারি ব্যবসায়ী, একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও একজন পাট ব্যবসায়ীর নাম এসেছে এই তালিকায়। তালিকায় নাম আসা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অনেক আগেই সাবেক হলেও তিনি এখনো সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন বলে আলোচনা আছে। এছাড়া সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সম্প্রতি পদ হারিয়েছেন। পরিবহন ব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত।

তালিকায় নাম আসাদের মধ্যে একজন সচিব এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। অন্য একজন সচিবের নাম এসেছে যিনি কৃষিভিত্তিক পণ্যনির্ভর একটি মন্ত্রণালয় সামলান। ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নাম এসেছে এই তালিকায়। তথ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি মন্ত্রণালয়ের সচিবও আছেন এই তালিকায়। অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবও আছেন এই তালিকায়।

পাপিয়াকাণ্ডের ছায়া তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুব মহিলা লীগ নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আস্তানা তৈরি করে, নারী, মাদক অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তার আস্তানায় আসা ব্যক্তিদের গোপন ভিডিও সংগ্রহ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। পাপিয়ার অপরাধ জগতের বিস্তারিত তথ্য জানতে দুই মামলায় স্বামী সুমনসহ পাপিয়াকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x