দৌলতপুরে মশাউড়া গোবর গাড়া কবরস্থানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল ॥ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

খন্দকার জালাল উদ্দীন,
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০
  • ৯২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
দৌলতপুরে মশাউড়া গোবর গাড়া কবরস্থানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল ॥ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দৌলতপুরে মশাউড়া গোবর গাড়া কবরস্থানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল ॥ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মশাউড়া গোবরগাড়া কবরস্থানের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল, এ নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাতের আঁধারে কবরস্থানের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগে এলাকাবাসী জানান, হামিদুল, জানমাহাম্মুদ মাস্টার ও নাসিরের নেত্রীতে তালা লাগানো হয়েছে, তারা শুক্রবার রাতে কোন এক সময় তালা ঝুলিয়ে দেয়। কবরস্থান টি ৪১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সভাপতি এম.জি. মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুল হক। ওহিদুল হক এর পিতা আজাহার আলী, নিজের জমি দান করে প্রতিষ্ঠা করেন কবর স্থান, তিনি মারা যাওয়ার পরে ওহিদুল হক সভাপতি হয়েছেন।
ওহিদুল হক সভাপতি হওয়ার পরে যে কবরস্থানের পাশ দিয়ে দিনের বেলাতে মানুষ যেতে ভয় করতো, সেই কবর স্থানকে একটি সুন্দর কবরস্থানে রুপান্ত করেছেন এবং তার ভাই একজন এল.জি. ডি’র কর্মকর্তা হওয়ায়, তার মাধ্যমে কবরস্থানের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনে গেট ও রাস্তা তৈরি করেন।
এছাড়াও এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করে ঈদের দিন ঈদের জামাত শেষে একটি সাদা কাগজে মুসল্লীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় একটি মহল, বলে এটা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সভাপতির অভিযোগ দেওয়া হবে।
এলাকাবাসী বলে সভাপতির বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করতে যাব কেন, তিনি আসার পরে তো কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয় নাই, যত উন্নয়ন ও অবদান বর্তমান সভাপতি এবং তার পরিবারের। তারা আরো জানান একটি কুচক্রী মহল কবর স্থানের বেশ কিছু টাকা আছে, সে গুলি দিয়ে ব্যবসা ও আত্বসাত করার ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে হামিদুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে তালা ঝুলানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। পরে আবার ফোন ব্যাক করে বলেন এক দেড় শত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মিটিং করে তালা লাগিয়েছে।
এ বিষয়ে সভাপতি ওহিদুল হক এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি জানান আমার কাছে নয় আপনারা এলাকাবাসীর কাছে জানলে বুঝতে পারবেন কার হাত দিয়েই কবর স্থানের এই উন্নয়ন। ২০০৮ সালের পর থেকে গোরস্থান কমিটির ক্যাশিয়ার বাদল বিশ্বাস সাহেবের কাছে জানলে বুঝতে পারবেন আজ পর্যন্ত দশটা টাকার কোন হিসাবে গরমিল হয় নাই।
ব্যাংক একাউন্টে ১০ লক্ষ টাকার উপরে আছে টাকা জমা আছে এবং এছাড়াও অ্যাকাউন্ট বাদে ক্যাশিয়ার এর কাছে ৩ লক্ষের উপরে টাকা আছে। যে টাকা দিয়ে ক্যাশিয়ার তামাকের ব্যবসা করেছে আমি বাঁধা দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে একটি মহল কে নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। কাহাকেও কিছু না বলে, মিটিং-সিটিং না করে তার হটকারী সিন্ধান্ত নিয়েছে, এটা তাদের নিজেদের স্বার্থে।
তারই অংশ হিসেবে তারা আজ এই অমানবিক কাজটি করেছে, যে কবরস্থানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে ক্যাশিয়ার বাদল বিশ্বাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান সভাপতি ওহিদুল হক আমার কাছে কোনদিন অনৈতিক কোন প্রস্তাব রাখেনি আমি ক্যাশিয়ার হওয়ার পর হিসাবে কোন গরমিল নাই। তাহলে কেন এই সমস্যাগুলো ঘটছে, তিনি জানান অর্থ কমিটির মাধ্যমে অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। পরে কবরস্থানের টাকা দিয়ে ব্যবসার করার কথা জানার জন্য যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার কাছে তেমন কোন টাকা নাই। এ সব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x