দৌলতপুরে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা সরকারের সকল অনুদান থেকে বঞ্চিত ॥ প্রায় ২ হাজার শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছে

খন্দকার জালাল উদ্দীন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০
  • ১৫৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও এলাকার সুশীল সমাজের দৃষ্টি আর্কষণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কিন্ডারগার্টেন বা প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোভিড-১৯ করোনা কালিন সময়ে সরকারের সকল অনুদান থেকে বঞ্চিত, প্রায় ২ হাজার শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কিন্ডারগার্টেন সমিতির নেতারা জানান, দেশের অন্যতম প্রধান খাত শিক্ষা, এ খাতের এক বিরাট অংশ চলে বেসরকারি শিক্ষকদের দ্বারা। দৌলতপুরে কিন্ডারগার্টেন বা প্রাইভেট বিদ্যালয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো ১২৭টি ছোট বড় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার শিক্ষক। এ বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এলাকার সচেতন মহলের অজানা নয়। অন্যান্য খাত কোভিড-১৯ বা লকডাউনেও সীমিত আকারে খোলা থাকলেও শুধু এই শিক্ষা খাতকেই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টানা প্রায় ৩ মাসের লকডাউনের প্রভাবে জাতি গড়ার এই কারিগররা মানবেতর জীবনযাপন করছে যা তথাকথিত সুশীল সমাজ ও সরকারের নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়েছে।

এলাকার নেতারাও নানা উন্নয়ন কাজে ব্যাস্ত থাকার ফলে প্রাইভেট স্কুল বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের কান্না কারো দেখার সময় হয়নি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য যাচ্ছে, অথচ দেশের নাগরিক হয়েও, জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের উচ্চ মহলের চোখে পরছেনা তাদের মানবেতর জীবন যাপনের দৃশ্য।

কিন্ডারগার্টেন সমিতির নেতারা আরো জানান, সবাই জানে শিক্ষিত বেকার কিন্ডারগার্টেন বা প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকদের ইনকাম সোর্স কি। একজন প্রাইভেট শিক্ষক মাসে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বেতন পেতেন। ২/৪ টা টিউশনী করে কোনোরকম জীবনযাপন করতেন। লকডাউনে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও তাদের ইনকাম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে তারা না খেয়ে মারা যাক এটাই সকলের কাম্য ? কি নিয়ে বাঁচবে তারা ? সম্মান ধুয়ে ধুয়ে পানি পান করে ? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান ক্ষুধার জ¦ালা মৃত্যুর চেয়ে কঠিন সেটা ’করোনা’ কালিন সময় জানিয়ে দিয়েছে। নিজের ঘরে যা ছিল অল্প দু’এক সপ্তাহ চলেছে, তারপর দোকান বাঁকীতে এক মাস, এরপর আত্বীয় স্বজনদের কাছে হাত পাততে হয়েছে, তাতে টেনেটুনে এক মাস চলেছে। পরে কোন আত্বীয় ফোন ধরেনা, কারণ তারা জানে টাকা ধার চাইবে! সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে গোপনে অন্য পেশা ধরতে হয়েছে।

নেতারা দাবী করেন, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু চলতে পারে, কিন্তু দু’একজন শিক্ষক জীবন বাঁচানোর তাগিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাইভেট পড়ালে তার জন্য জরিমানা ! কেন? আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তারাতো উচ্চ শিক্ষিত মানুষ, এই প্রাইভেট পড়ানোর পেছনে রয়েছে ক্ষুধা, দারিদ্র, অভাব, স্ত্রী-সন্তানের ঔষধ ও জীবন বাঁচানোর আত্বনাদের একটা পথ, তাঁদের বোধগম্য হয়না ? শিক্ষকরা রোহিঙ্গাদের চেয়েও মানবেতর জীবনযাপন করছে, এটা কেহ বুঝতে পরেনা, কারণ শার্ট-প্যান্ট তো তাদের আয়রণ করে পরতে হয়,ত্রাণ বিতরণে দাঁড়াতে পারেনা, সবাই স্যার বলে সম্মান করে। একটু অন্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখলে জানাযাবে তাদের ঘরের অবস্থা, তারা কিভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

নেতা ও সাধারণ শিক্ষকদের দাবী স্কুল ছুটি কালিন সময় প্রতি মাসে অন্তত ৩০ কেজি চাউলের ব্যবস্থা করতে হবে। চাউলটা হলে বাড়ির পাশে বিনা পয়সার কচুর শাক ঘেটে, ছেলে-মেয়ে নিয়ে জীবন বাঁচাতে পারবে, তা নাহলে করোনা ভাইরাস প্রয়োজন হবেনা, খাওয়ার অভাবে অপুষ্টিতেই সকলকে মরতে হবে।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বারবার বলেছেন কর্মহীন,অস্বচ্ছল যারা মানুষের কাছে হাত পাততে পরেনা, অথচ অভাব না খেয়ে জীবন যাপন করছে, এমন মানুষের জন্য ঈদ উপহার বা প্রণোদনার টাকা দেয়ার জন্য একটি মোটা অংকের টাকা উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সে সব লাখ লাখ টাকা উপজেলায় আত্বীয় করণ ও হরিলুট হয়েছে, শিক্ষিত কর্মহীনরা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন।

বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও এলাকার সুশীল সমাজের দৃষ্টি আর্কষণ করা হল, কিন্ডারগার্টেন বা প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকদের পরিবার বর্গের প্রতি সদয় হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x