দৌলতপুরে মোতাছিম বিল্লাহর রাজনৈতিক জীবন ও কিছু কথা

খন্দকার জালাল উদ্দীন,Email:uddinjalal030@gmail.com
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০
  • ১১২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার দুই নম্বর মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামে ১৯৬৯ সালে ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মোতাছিম বিল্লাহ। হোসেনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন তিনি। তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে এস এস সি পাস করেন। পরে কুষ্টিয়া গর্ভামেন্ট কলেজে পড়াশোনার সুযোগ হলেও তিনি ছয় মাস পরে নাটোর জেলার আব্দুলপুর কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পান। আশির দশকে তিনি তার পিতার আদর্শে অনুপ্রেরিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

মোতাছিম বিল্লাহ তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, এরশাদ সরকার যখন ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয় ঠিক সেই সময় আব্দুলপুর কলেজে আমরা বাংলাদেশ ছাত্র লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দুর্বার গতিতে ছাত্রলীগের আন্দোলন চালিয়ে যায়। সেই সময় কলেজ ছাত্রলীগ শাখা আমার ভূমিকায় খুশি হয়ে আমাকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়ীত্ব দেন। দায়ীত্ব গ্রহণের পরে তৎকালীন সময়ে ছাত্ররাজনীতি করা সরকারের নানা রকম বাঁধা নিষেধ থাকায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হই, তারপর দোমিয়ে রাখতে পারেনি তৎকালীন সরকার, আমি এবং তৎকালীন সভাপতি শামসুর রহমান শাহিন উভয়ের সমন্বয় বিভিন্ন বড় বড় সভা-সেমিনার করেছি নাটোর জেলায়।

পরে ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকার পতনের জন্য দৌলতপুর উপজেলা থেকে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রতিটা মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করি, এই ভূমিকায় খুশি হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্ব দেন দীর্ঘদিন মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উন্নয়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করি । ২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর আমার ওপর শুরু হয় নানা রকম নির্যাতন পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ঢাকায় চলে যায়, সেখানে গিয়ে দীর্ঘ দিন আমি টাকা পয়সার অভাবে মসজিদ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাত্রিযাপন করে থাকি। এই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মোতাছিম বিল্লা। এসময় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমার যখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় বর্তমান সংসদ সদস্য আ.কা.ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ আমাকে তার নিজ উদ্যোগে আদাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তার এই অবদান কখনো ভুলবো না।

বর্তমানে আমি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। আব্দুলপুর কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন সময়ের ছাত্রলীগ সভাপতি মোতাছিম বিল্লাহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, মোতাছিম বিল্লা তৎকালীন ছাত্রলীগকে টিকিয়ে রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিশ্রমের ফলে তাকে কলেজ ছাত্রলীগ শাখা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়ীত্ব দেন এখনো আব্দুলপুর তথা নাটোর জেলায় তাকে মোতাছিম বিল্লা নামে নয় ছাত্রলীগের ভদ্র ভাই নামে চিনে লোকজন।

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ, মোতাছিম বিল্লাহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, এরশাদ সরকার পতনের জন্য দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে না না রকম কর্মসূচি দেওয়া হতো। সকল কর্মসূচিতে মোতাছিম বিল্লাহ উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুসারে নব্বই পরবর্তী যে ইউনিয়ন কমিটি গঠন হয়, সেই কমিটিতে সাংগঠনিক পদে দায়ীত্ব পায় মোতাছিম বিল্লা। দায়ীত্ব পাওয়ার পর মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তৎকালীন সভাপতি কে নিয়ে সুসংগঠিত করেন মোতাছিম বিল্লা। সে অদ্যবধি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে জড়িয়ে আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x