কুষ্টিয়ায় যুবলীগের নামে সমবায় সমিতি, রমরমা সুদের ব্যবসা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

যুবলীগের কর্মকান্ডে সারাদেশে সংঘবদ্ধ নেতাকর্মী। এবার সেই নামটিই ব্যবহার করেই সমবায় সমিতির খোলা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে যুবলীগ সমবায় সমিতি। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়িয়ায়। যুবলীগ সমবায় সমিতির নামে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা।

 

 

শতকরা প্রতিমাসে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করা হচ্ছে এ যুবলীগ সমবায় সমিতির মাধ্যমে। এতে স্থানীয় লোকজন এ সমিতির খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

যুবলীগ সমবায় সমিতির উদ্বোধন ও সমিতির সদস্যদের আইডি কার্ড দেওয়ার ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবিতে পাটিকাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনকেও দেখা যাচ্ছে। এই নিয়ে ফেসবুকে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। যুবলীগ সমবায় সমিতি নাম ব্যবহার করে সমিতি খোলায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ,যুবলীগ ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন। পাটিকাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিনকে এ যুবলীগ সমবায় সমিতির উপদেষ্টা বানিয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের নাম ব্যবহার করে নিবন্ধনহীন যুবলীগ সমবায় সমিতি খুলে বসেছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন। তিনি এ যুবলীগ সমবায় সমিতির মাধ্যমেই ইউনিয়ন এলাকায় চড়া হারে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রমরমা সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তার উপরে নেমে আসে জুলুম নির্যাতন। এ সমিতির খপ্পড়ে পড়ে ইউনিয়ন এলাকার খেটে খাওয়া অসহায় মানুষগুলো হারাচ্ছে সর্বস্ব। এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পাটিকাবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন বলেন,যুবলীগের নামে সমবায় সমিতি করা যায় না এটা আমার জানা ছিল না। এ সমিতিতে একশত জন সদস্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুইশত টাকা করে নিয়ে চলে এ সমিতি। সুদের কারবার করা হয়নি এখানে। কিছু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব প্রচার করছে।
পাটিকাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন বলেন,ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনের বড়ভাই আব্দুল আলিম আমার চোখে দেখা সব থেকে ভালো লোক। সে ৫লক্ষ টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়েই সমিতি খোলা হয়েছে। তার টাকা দিয়ে সুদের কারবার করা হয়নি। কেউ যদি বলে থাকে এধরনের কথা তাহলে এটা মিথ্যা কথা। আমি জানতাম না তারা যুবলীগ সমবায় সমিতি গঠন করেছে। আমি জেনেছিলাম তারা যুব সমবায় সমিতি করেছেন। আসলে এটা ওদের বড় ভুল হয়েছে। কারণ যুবলীগ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অংঙ্গসংগঠনের বড় একটি সংগঠন। ওই সমিতির সদস্যদের আইডি কার্ড বিতরণের সময় ছবিতে আপনাকেউ দেখা যাচ্ছে আইডি কার্ডে লেখা ছিল যুবলীগ সমবায় সমিতি এমন প্রশ্ন?

 

 

করলে তিনি বলেন,আসলে আমি আইডি কার্ডটি ভালো করে দেখিনি। তবে আমি জেলা যবলীগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করে ফেলেছি।

 

 

কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন,দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন কারীর কোনো ছাড় নেই। যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সমবায় সমিতি খোলার বিষয়টি আমাকে অনেকেই জানিয়েছেন। যদি এটা তিনি করে থাকেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এ ব্যাপারে আমি সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x