দৌলতপুরে ভূমিদস্যু মোঃ সালামত আলী খাস জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

Khandaker Jalal Uddin. Email: uddinjalal030@gmail.com
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

 

মোঃ আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়া দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নে শেরপুর বাজার সংলগ্ন হরিবল্লবপুর মৌজায় আর.এস ৫০০৬ নং দাগে ১নং খাস খতিয়ানের ১১ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ শতক সরকারি সম্পত্তি গত বৃহস্পতিবার রাতে খড়ি ফেলে ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যু মোঃ সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম (৫৫)। তিনি একই এলাকার মৃত আমছের আলীর পূত্র।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, এলাকায় ভূমিদস্যু নামে পরিচিত সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম উল্লেখিত সরকারি সম্পত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাশের খুটি দিয়ে টিনের ছাউনি করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে ও সামনের অংশে খড়ি ফেলে জমি দখল করে নেন।

মোঃ শরিফুল ইসলাম রিন্টু বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে সালামত সরকারি খাসজমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে এলাকাবাসী থানায় অভিযোগ দিলে গভীর রাতে দিঘলকান্দি পুলিশ ক্যাম্পের আইসি মোঃ নাজিবুল ইসলাম ও স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ছইমদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় সালামতকে বাড়িতে পাননি দৌলতপুর থানা পুলিশ।

স্থানীয় মুরুব্বি মোঃ চাদ আলী শেখ বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে স্থাপনা তৈরি করে গত বৃহস্পতিবার রাতে খাস জমি দখল করে নেন সালামত। উক্ত জমি দীর্ঘদিন খালি পড়ে ছিলো।

মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, উক্ত খাস জমিটি আমরা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকতে দেখেছি। হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় ভূমিদস্যু নামে পরিচিত সালামত আলী জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে জমিটি দখল করে নেন।

স্থানীয় মহিলা ওয়ার্ড মেম্বার মোছাঃ কুলসুম আরা বলেন, সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম প্রতারণার মাধ্যমে আমাদের পিয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নিয়েছিলো। তার প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারলে আমরা পরে সেই সনদটি বাতিল করি।

পিয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু বলেন, সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ গ্রহন করে। সরজমিনে উপস্থিত হয়ে আমরা জানতে পারি যে, সে ভূমিহীন নন। তার মাঠে কৃষি ও বাড়ির জমি আছে। সে আমাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভূমিহীন সনদ নিয়েছে। সে একজন মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।

সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম বলেন, আমি সরকারী জমিতে খড়ি ফেলিছি ও খড়ি যাতে বৃষ্টিতে না ভিজে সেজন্য ঘর বানিয়েছি। কারো ব্যক্তিগত জমিতে তো ফেলিনি। জমিটিতে আমি ৩০ বছর ধরে আবাদ করি খাই।

দৌলতপুর থানায় অভিযোগকারী মোঃ বেনজীর বিশ^াস বলেন, দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর বাজার সংলগ্ন হরিবল্লবপুর মৌজায় আর.এস ৫০০৬ নং দাগের জমি নিয়ে সালামত আলী ওরফে আব্দুস সালাম এর সাথে আমার দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় শত্রুতা চলে আসছে।

আমি উক্ত দাগের জমিতে খড়ি রাখার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করায় আমাকে সে আকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও খুন জখমের হুমকি দেয়। আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমি তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

উক্ত অভিযোগের তদন্তকারি অফিসার ও দিঘলকান্দি পুলিশ ক্যাম্পের আইসি মোঃ নাজিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেসময় সালামতকে তার বাড়ীতে পাওয়া যাইনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, এসিল্যান্ড সাহেব অসুস্থ, আমি নিজেই আগামীকাল ঘটনাস্থলে যাব। সরকারি জমি যারা দখল করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উক্ত জমিটি এস.এ রেকর্ডে ৭৫৫ খতিয়ানে ৩৭৯১ দাগে ১৭ শতক আব্বাস আলী গং এর নামে প্রচলিত ছিলো, আর.এস রেকর্ডে এসে ৫০০৬ দাগে ১নং খাস খতিয়ানে রের্কডভুক্ত হয়।

পরবর্তীতে মোঃ কাদের বিশ^াস বাদী হয়ে দৌলতপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১টি রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন। সেই মামলার বিবাদী হচ্ছেন, সহকারী কমিশনার ভূমি, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া। যার মামলা নং-৭৩/২০। আদালত উল্লেখিত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....
x