কুষ্টিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মেয়ের দেহ ভোগ করে এখন অস্বীকার করছে এক কাউন্সিলরের ছেলে । এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি ।
এদিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছেলে ইমন কর্তৃক অসহায় পরিবার ভেবে বিয়ের প্রলোভনে ৭ মাস ধরে শারিরীক সম্পর্কের পর এখন অস্বীকার করায় মেয়েটি দুইবার আত্বহত্যার চেষ্টা করে । বর্তমানে মেয়েটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ।

জানা যায় কুষ্টিয়া শহরের মোহিনী মিল পাড়া এলাকায় মৃত হাবিবার মোল্লার মেয়ে সুমি (১৭) একটি অসহায় পরিবারের মেয়ে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ গোলাম মোস্তফা লাবলুর লম্পট ছেলে ইমন। এক সময় মেয়েটির ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন দেখায়। মেয়েটির বয়স কম থাকার কারনে শ্বরল মনে লম্পট ইমনের কথা বিশ্বাস করে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক সময় মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সাথে শারিরীক সম্পর্কে গড়ে তোলে মেয়েটি এটিও স্বরল মনে বিশ্বাস করে নেয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকার পর মেয়েটি যখন লম্পট ইমন সম্পর্কে জানতে পারে যে এর আগেও আরো অনেক মেয়েদের সাথে এমন অনৈতিক ভাবে সম্পর্ক করেছে ইমন। তখন মেয়েটি লম্পট ইমনকে বিয়ের কথা বললে তা প্রত্যক্ষান করে এবং বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। শুধু তাই নয় মেয়েটিকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালীসহ তাঁর নামে মানুষের কাছে খারাপ মন্তব্য করে বেড়াতে থাকে লম্পট ইমন।

দিশেহারা হয়ে মেয়েটি গত ২০/০৬/২০২০ তারিখ শনিবার সন্ধা ৭টার সময় দুই বোতল হ্যাক্সসল ও ১০ টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্বহত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসরে মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর জ্ঞান ফিরলে লম্পট ইমন পূনরায় মেয়েটিকে ফোনের মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালাগালী সহ ভিবিন্ন ধরনের হুমকী ও খারাপ বলায় গত ২১/০৬/২০২০ রবিবার বিকাল ৩টার সময় পূনরায় এসিড জাতীয় দ্রব্য খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটির অবস্থা খারাপ দেখে আশংকাজনক ভাবে দ্রæত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর পরিবার। মেয়েটির এখনো হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এই বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা হলে তিনি জানান তাঁর বর্তমান অবস্থা এখনো শংকামুক্ত নয় ৭২ ঘন্টা না গেলে কিছু বলা যাবেনা। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কুষ্টিয়া মডেল থানাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসা ইনচার্জ গোলাম মোস্তফার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা মেয়েটির সুস্থতার জন্য সব সময় নজর রাখছি, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এই বিষয়ে লম্পট ইমনের বাবা কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ গোলাম মোস্তফা লাবলুর সাথে মুঠফোনে কথা হলে তিনি জানান, মেয়েটি ভালো না আমার ছেলের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না, আপনার কিছু বলার থাকলে আমার সাথে দেখা করেন।

মেয়েটি পরিবার সুত্রে জানা যায় লম্পট ইমনের পরিবার তাদের ক্ষতিপূরন বাবদ ২০০০ টাকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দিচ্ছে। তাহলে এই যদি হয় বর্তমান অবস্থা তাহলে এমন নরপেষকদের হাতে অসুরক্ষিতই থেকে যাবে অসহায় নারীদের জীবন।

তাই সচেতন মহলের দাবী যে, এই লম্পট ইমনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংশতা দুরীকরনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জোর দাবী জানিয়েছেন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুষ্টিয়ায় কাউন্সিলরের ছেলে কর্তৃক অসহায় মেয়ের দেহ ভোগ

x